
ছবি সংগৃহীত---
বিশেষ প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাসায়নিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে যুক্ত হলো ১০০ কোটি টাকার বৈশ্বিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই)। দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী এসআর গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চীন, কানাডা ও জার্মানির শীর্ষস্থানীয় তিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদন করেছে।
উন্নত তিন দেশের সঙ্গে গঠিত যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসআর প্যাসিফিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশাল বিনিয়োগের খবর নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।
কী উৎপাদিত হবে নতুন প্রকল্পে?
চুক্তি অনুযায়ী, দেশে একটি অত্যাধুনিক ‘ট্রাইক্লোরোইসায়ানুরিক এসিড’ উৎপাদন প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হবে। এই প্ল্যান্টের অন্যতম বড় বিশেষত্ব হলো—এখানে উৎপাদিত পুরো পণ্যই (১০০ শতাংশ) বিদেশে রপ্তানি করা হবে। এতে বিশ্বমানের রপ্তানিমুখী রাসায়নিক শিল্প তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় সম্পদ ক্লোরিনের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
কবে শুরু হচ্ছে উৎপাদনে যাত্রা?
ইতিমধ্যেই প্ল্যান্ট তৈরির প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে পণ্য তৈরি এবং তা বিশ্ববাজারে সরবরাহের নতুন দিন গণনা শুরু হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
চুক্তিতে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী এবং পুয়াং কেমিক্যালসের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিনকে ওয়াং স্বাক্ষর করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন এসআর গ্রুপের প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা মেহবুব চৌধুরীসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তিন দেশের অভিজ্ঞতা ও মূলধন সমন্বিত হওয়ায় বাংলাদেশের রাসায়নিক শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্বমানের প্রযুক্তি স্থানান্তরিত হবে। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং একই সাথে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় রাসায়নিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ সুগম হবে।