বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চৌদ্দগ্রামে দিনে দুপুরে পাকা ঘর ভেঙে চুরমার: সন্ত্রাসীরাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ চৌদ্দগ্রামে আমরা বিএনপি পরিবারের বাড়ি উপহার মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে চৌদ্দগ্রামের রমজান আলী নোবিপ্রবিতে ছাত্রী সংস্থার উদ্যোগে হতে যাচ্ছে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান সুবর্ণচরে ইউএনওর নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান মিরপুরে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজ, পল্লবী থানায় জিডি চৌদ্দগ্রামের জাহিদুল ইসলামকে দৈনিক কাগজের সংবাদ পত্রিকার ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান নোবিপ্রবিতে ‘ব্যানারকাণ্ড’: খুলে ফেলার পর ফের টাঙাল ছাত্রশক্তি, রাত পেরোতেই আবার উধাও। জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল সীতাকুণ্ডে আগুনে পুড়ে ছাই হলো ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যয় মেটাতে পারছে না সাধারণ মানুষ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

মীর হোসেন মোল্লা: প্রতিবছরের মতো এবারও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তীব্র রূপ নিয়েছে, আর এর সরাসরি আঘাত এসে পড়েছে খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্ধারিত ৪০টি শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে বহু রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের মেঝেতে স্থান পাওয়া এই অসুস্থ মানুষগুলোর কষ্টের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর দুশ্চিন্তা।

সরকারি হাসপাতালে শয্যা বা সাধারণ পরামর্শ বিনামূল্যে মিললেও ওষুধ ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পুরো খরচই বহন করতে হচ্ছে রোগীদের। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের সিংহভাগই দরিদ্র বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অসুস্থতার কারণে তাঁদের নিত্যদিনের আয়-উপার্জন বন্ধ, আর অন্যদিকে প্রতিদিন জমা হচ্ছে চিকিৎসা খরচের ফর্দ। জমানো সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ায় স্বজন বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ধারদেনা করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। একটি চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি কীভাবে একটি পরিবারকে দারিদ্র্যের চরম সীমায় ঠেলে দেয়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডের এই চিত্র তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ডেঙ্গু লক্ষণ ও জটিলতার দিক থেকে আগের চেয়ে পৃথক। জ্বর থাকা অবস্থাতেই রোগীর শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অবস্থান করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ঝুঁকি বহুলাংশে বেশি। এ অবস্থায় চিকিৎসায় বিলম্ব হলে মৃত্যুর ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে আনুষঙ্গিক খরচ।
কেবল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বা রোগীর সংখ্যা গণনা করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রথমত, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় এনএস১ সিবিসিসহ অন্যান্য ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ পুরোপুরি বিনামূল্যে করার পাশাপাশি হাসপাতাল থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযানকে কেবল লোকদেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে নিয়মিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চিকিৎসার অভাবে বা চিকিৎসা করাতে গিয়ে যেন কোনো পরিবার নিঃস্ব হয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। জনস্বাস্থ্যের এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও সাধারণ মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে দেবে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর