শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চৌদ্দগ্রামে গাছের পাতা পরা নিয়ে বিরোধ: কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় যুবদল নেতা মফিজ আহত, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি কখন ফল খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী? যা বলছে গবেষণা মিশন আচার্যের নিয়োগ শিগগিরই, জানালেন রাশেদ খাঁন সংবাদ প্রকাশের পর সিকৃবি ভিসি আলিমুলের বিদায় উদ্যোক্তাদের জন্য ৯৯টি এআই প্রম্পট, সহজ হবে পণ্যের প্রচারণা শনির চাঁদে প্রাণের সন্ধানে নতুন আশার আলো ৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সোমবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সপ্তাহের সেরা ১০ চাকরি: জেনে নিন ১২৭৩ পদের বিবরণ (২৫ সেপ্টেম্বর—১ অক্টোবর) সাবেক মেয়র, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৬০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা ড. নয়ন বাঙালিকে দেশে ফেরার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কখন ফল খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী? যা বলছে গবেষণা

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

কিছু ফল। ছবি: সংগৃহীত গুগুল—

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ফল স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, তবে এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ মনে করেন খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো, আবার কেউ বলেন খাবারের পর ফল খেলে হজমে সমস্যা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে নানা তথ্য ঘুরে বাড়ালেও বিজ্ঞান আসলে কী বলে, তা জানা জরুরি।

পাকস্থলীতে ফল কি পচে যায়?

একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং পচে গিয়ে গ্যাস বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পাকস্থলী প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট একসাথে হজম করার জন্য তৈরি। ফল খাবারের সাথে বা পরে খেলে তা পেটে পচে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে পুষ্টি শোষণেও কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না।

আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে খাবারের আগে ফল খাওয়া আপনার জন্য ফলদায়ক হতে পারে। ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও জল থাকে, যা দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি দেয়। একটি ছোট ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের আগে ফল খেয়েছেন, তারা মূল খাবারের সময় কম ক্যালরি গ্রহণ করেছেন। ফাইবার ধীরে ধীরে হজম হয় বলে এটি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় রাখে।

রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফলের টাইমিং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফল যেকোনো সময় খাওয়া নিরাপদ। তবে মাঝারি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফলের ক্ষেত্রে মূল খাবারের পর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা কেন হয়?

যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা নির্দিষ্ট শর্করার প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা ফল খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তবে এটি খাবারের টাইমিংয়ের চেয়ে ফলের ধরন এবং পরিমাণের ওপর বেশি নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শারীরিক লক্ষণ বুঝে খাবারের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন।

ফল খাওয়ার কার্যকর উপায়

পুষ্টিবিদরা ফলকে একা না খেয়ে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে মিলিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের স্লাইসের সাথে পিনাট বাটার বা টক দইয়ের সাথে বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সংমিশ্রণটি পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে।

শেষকথা

ফল খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট’ সময় নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনি কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাচ্ছেন কি না। যদি খাবারের আগে ফল খেলে আপনার পেট ভরা লাগে এবং তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে সেটিই আপনার জন্য সঠিক সময়। আবার খাবারের পর ফল খেয়ে যদি আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই। আসল কথা হলো, ঘড়ির কাঁটা নয়, বরং আপনার শরীর যেভাবে ভালো থাকে সেভাবেই নিয়মিত গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর