
ছবি সংগৃহীত—
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের (শিক্ষা) মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না। তবে নিয়োগের আগে পুলিশ যাচাই একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাকি প্রার্থীদের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার হবে বলে জানান তিনি।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রার্থীদের নিয়োগে বৈষম্য করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রথমে ৬৬৮ জনকে সুপারিশ করার কথা বিভিন্ন সংবাদে এসেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা ৬৬৫। কারণ, তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আবেদনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সনদ দিয়ে আবেদন করা গেলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে মূল বা সাময়িক সনদ জমা দিতে হয়। ওই তিনজন তা জমা দিতে পারেননি। এ ছাড়া আটজন প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে সব প্রক্রিয়া মিলিয়ে ৬৫৭ জন প্রার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় আসে। তাঁদের মধ্যে ৬১১ জনের নামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলছে।
ওই প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদধারী নেতা ছিলেন। সম্ভবত তিনি হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগ পাবেন না—এমন ধারণা থেকেই ওই প্রার্থী উদ্বিগ্ন হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আরও একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন—আমি নাম নেব না, তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘ভেরিফিকেশনের নামে সমস্ত অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হোক।’ ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া; সেটা সব সময়, সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনের দরুন নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটা অভিযোগ বা আবেদন দাখিল করা যায়, যা তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখনো সেই সময়টা আসেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না—এ নিশ্চয়তা সরকার দিচ্ছে। তবে পুলিশ যাচাই শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে যাচাইয়ে তা উঠে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে কেউ কেউ নিয়োগ থেকে বাদ পড়তে পারেন। অতীতে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের দণ্ড থাকার কারণে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পুলিশ যাচাই কোনো নতুন ব্যবস্থা নয়। সব সরকারের সময় বিধি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। যাচাইয়ের নামে নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাঁরা বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁদের এ প্রক্রিয়ার বিষয়টি বুঝতে হবে।
তবে গুরুতর অভিযোগের কারণে যাচাই শেষে কেউ নিয়োগপত্র না পেলে তাঁর প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ বা আবেদন করতে পারেন।
বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে। এর আগে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। প্রজ্ঞাপনের নথিতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরও প্রয়োজন হয়। এ কারণে প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করা উচিত নয়। ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য বাছাইপ্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা কথা হয়েছে, সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁরা কাজ করছেন, এমনকি শনিবারে ছুটির দিনেও কাজ করছেন প্রক্রিয়াটি শেষ করার জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং ছুটির দিন শনিবারেও কাজ করবেন, যাতে প্রক্রিয়াটি শেষ করা যায়। বাকি ৪৬ জনের আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন হবে বলে জানান মন্ত্রী।